বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৮:১৭ অপরাহ্ন

কিশোরীর আত্মকথন

ধরলা টাইমস
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০
  • ৫৬ বার দেখা হয়েছে

ঘড়ির কাঁটায় রাত দুটো বেজে বারো মিনিট। পুরো শহর ঘুমিয়ে। ডিম লাইটের আবছা আলোয় ইট-কংক্রিটের দেয়েলগুলো চমৎকার লাগছে। আমি অবশ্য মধ্যরাতের আবছা আলোতেও সৌন্দর্য খুঁজে পাই।

অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি সাদা ধবধবে দেওয়ালের দিকে। কী যেন ভাবি আনমনে। খুব সম্ভবত অতীত হাতড়ে বেড়াই। চোখটা কেমন যেন ঝাপসা হয়ে আসে। কখনো সখনো নাকের ডগায় বিন্দু জলের অস্তিত্ব টের পাই। বামহাতের উল্টো পিঠে জলের অস্তিত্ব নিঃশেষ করায় মনযোগী হই।

হটাৎ দেওয়ালে বড় ঘড়িটায় চোখ যায়। দুটো বেজে আটচল্লিশ মিনিট! মাঝে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে।
সময়! সে তো বল্গাহরিণ, হাউই ফানুস
সময়! সে তো পালকি চড়ে হচ্ছে ভেনিস
আমি ভাই নির্বিবাদী সহজ মানুষ!

বল্গাহরিণ! সে তো বটেই। সাত হাজার তিনশত পাঁচটি দিন জীবন থেকে বিদায় নিল টেরই পেলামনা! বিশটি বসন্ত কম কথা!
যেহেতু বয়স একুশের মাঝামাঝি, সেহেতু কিশোরী বলা চলে। জীবনের খুব বেশি পথ পার হই নি বটে, কিন্তু খুব অল্প যে পার হয়েছি তাও নয়। বিশটি বছর খুব কম সময় নয়। যখন খুব ছোট ছিলাম, তখন ভাবতাম আব্বু, আম্মুকে নিয়েই আমার পৃথিবী। তার ঠিক পাঁচটি বছর পরেই আমার পৃথিবীর আলো হয়ে এলো আমার বোন। স্কুলে যাওয়া যখন শুরু হল, তখন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, সহপাঠীদের নিজের পৃথিবীতে বরণ করে নিলাম। ক্রমেই বাড়তে লাগলো আমার পৃথিবী। স্কুল, কলেজ পেরিয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে। কতশত স্মৃতি, কতশত অপূর্ণতা, কতশত ব্যর্থতা!

আর এভাবেই কেটে যাবে সময়, দিন মাস পেরিয়ে বছরের পর বছর। আবারো বর্ষা আসবে,ভেজাবে কদমফুল। অনন্তকাল ধরে চলবে প্রকৃতির এমনি নিয়ম। ধুলোমাখা ডায়েরি পড়ে থাকবে পরিত্যক্ত জায়গায়, অথচ ডায়েরিটা নরম হাতের ছোঁয়ায় সাজানো সপ্নে ভরে যেত কোন কোন পড়ন্ত বিকেলে কিংবা নিস্তব্ধ রাতে।
শুধু থাকবো না আমি!

অপদার্থ ঘড়িটির ঢংঢং শব্দ জানান দিচ্ছে চারটা বেজে চল্লিশ মিনিট। আরো একটি নতুন দিনের সূচনা। আরও কিছু সময়, স্বপ্ন, বাস্তবতা।

লেখক: তানভীন ফাতেমা তাসফী, অনার্স ২য় বর্ষ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার মতামত লিখুন :

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন:

এ বিভাগের আরো পোস্ট
© All rights reserved © 2019 Dhorla Time
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102