শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত নয়, সচেতন হোন

ধরলা টাইমস
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২০
  • ৫১ বার দেখা হয়েছে

সমগ্র মানবসমাজ আজ এক আতঙ্কের খাঁচায় বন্দি। চারিদিকে দেখা যায় ও শোনা যায় শুধু আতঙ্কের দৃশ্য ও আতঙ্কের হাহাকারের শব্দ। যেন মনে হয় সারা পৃথিবী আজ আতঙ্কে জর্জরিত। চারিদিকে শুধু আতঙ্ক, আতঙ্ক আর আতঙ্ক। এই আতঙ্কের নাম হল নোভেল করোনা ভাইরাস (COVID-19)। এই ভাইরাস আজ গ্রাস করেছে পুরো বিশ্বসমাজকে। যেন মনে হয় পুরো পৃথিবী আজ ক্রন্দনরত।

এই নোভেল করোনা ভাইরাস (COVID-19) ২০১৯ সালে ৩১ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম চীনের উহান শহরে উৎপত্তি লাভ করে। তারপর ক্রমে ক্রমে এই ভাইরাস সমগ্র দেশ তথা সমগ্র পৃথিবীকে গ্রাস করে। মারণমুখী এই ভাইরাস (COVID-19) ক্রমে ক্রমে সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসটি যেন একটি “Global Disease”হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভাইরাসের প্রভাবে শত-শত, লক্ষ-লক্ষ মানুষের প্রাণঘাতি ঘটে। এই পৃথিবীটা যেন ভরতে থাকে মানুষের লাশের পাহাড়ে। মানুষ আজ এই ভাইরাসের আতঙ্কে মানসিক, দৈহিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বিপর্যস্ত। মানুষ আজ প্রতিনিয়ত খুঁজে চলেছে একটুকু বাঁচার আশার আলো। মানুষ আজ অপেক্ষারত ভাইরাস (COVID-19) মুক্ত একটি সুন্দর সোনালী সকালের। কিন্তু এই মারণমুখী ভাইরাস দিনে দিনে মানুষের লাশের পাহাড় বৃদ্ধি করেই চলেছে।

এছাড়াও এর পাশাপাশি বৃদ্ধি করে চলেছে সমাজের বিবিধ সামাজিক সমস্যাবলিও- দারিদ্র, বেকারত্ব, অপরাধের পরিমাণ, আত্মহত্যার সংখ্যা, স্কুলছুটের সংখ্যা,পড়াশোনার সমস্যা,স্বাস্থ্যের সমস্যা প্রভৃতি। কোনোভাবেই মোকাবেলা করা যাচ্ছেনা এই মারণমুখী ভাইরাসটির বিরুদ্ধে। নেই কোন এই ভাইরাসের প্রতিষেধক ও ওষুধ। তাই তো অকালেই এক শিশুকে হারাতে হচ্ছে তার মা-বাবাকে। এর পাশাপাশি অনেক মা-বাবার কোলও দিন দিন শূন্য হচ্ছে এই নোভেল করোনা ভাইরাসের দরুন। ২০১৯ সালে এর সৃষ্টি হলেও ২০২০ সালে এই ভাইরাস মারাত্মকভাবে সারা পৃথিবীকে গ্রাস করে। চারিদিকে শুধু শোনা যায় আতঙ্কের কলরব। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে যেন এক আতঙ্কের বাসা বেঁধেছে। কি ভয়াবহ এই দৃশ্য ! চারিদিকে শুধু মানবদেহের লাশ, মানুষের কলরব, আর অনাহারের দৃশ্য লক্ষ‍্যণীয়।ইতিহাসে এমন ঘটনা মনে হয় এর আগে কখনও ঘটেনি। করোনার ফলে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা এতই বৃদ্ধি পায় যে, শেষ পর্যন্ত মৃত দেহের শেষ কার্যটিও সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। সারা পৃথিবীটা যেন কবরের সাম্রাজ্যে ঢেকে গেছে।

এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করতে শেষ পর্যন্ত সরকার কর্তৃপক্ষকে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হয়েছিল তা হল ‛লক ডাউন’। ভারতবর্ষে এই লকডাউন প্রথম জারি করা হয় ‛জনতা কারফিউ’ নামে ২২ মার্চ ২০২০ সালে। এমন ঘটনা এর আগে মানবসভ্যতার ইতিহাসে আগে কখনও ঘটেনি বলে মনে করা হয়। লকডাউনের অর্থ হল কেউ রাস্তায় না বেরিয়ে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে গৃহবন্দি করে রাখা। এই করোনা ভাইরাসকে দমন করতে একটাই পথ হল সতর্কতা এবং লকডাউন। মানুষ কখনো হারতে শেখেনি; তাই আজও হারবে না। তাইতো মানুষ নানান পন্থায় এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে সর্বদা তাদের প্রচেষ্টা কে চালিয়ে যাচ্ছে। সমগ্র মানব সমাজ অনেক আশা নিয়ে একটু বাঁচার আশার আলো পাওয়ার অপেক্ষায় বসে আছে। যে হাসিটি মানুষের মুখ থেকে বিদায় নিয়েছিল, সেই হাসিটিও আবার কবে ফিরে পাবে সেই আশায় মানুষ দিন কাটাচ্ছে এবং সমগ্র মানব সমাজ কবে এই ভাইরাসের আতঙ্কের খাঁচা থেকে মুক্তি পাবে তারই দিন গুনছে। তাই বলব, এই আশা কে যদি আমাদেরকে বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে অবলম্বন করতে হবে একটুকু সতর্কতা ও সচেতনতা। এই সতর্কতা ও সচেতনতা-ই সূচনা করতে পারে এক নতুন যুগের নতুন সকাল। তাই বলব কোভিড-19 এর আতঙ্ক এলেও অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সতর্ক ও সচেতন করতে হবে।তবেই এক ভাইরাসমুক্ত নতুন দিনের সূচনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন:

এ বিভাগের আরো পোস্ট
© All rights reserved © 2019 Dhorla Time
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102