Saturday , October 31 2020

তদন্ত (পর্ব-০২)

তদন্ত

লেখক: রুদ্র অয়ন


ড্রইং রুমে বসে আছে সজীব। সাথে অমর। কেসটার গুরুত্ব নিয়ে ওরা আলাপ আলোচনা করছে।

অমর বললো, ‘ঘটনাটা সহজ মনে হচ্ছেনা।’
সজীব ধীর কণ্ঠে বললো, ‘আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শরীফ রহমান এবং তুলির সাথে আলাপ করা একান্ত প্রয়োজন।’
অমর বললো, ‘পুলিশ তদন্ত শুরু  করে দিয়েছে। পুলিশ অফিসার অজয় শেখ সম্ভাব্যস্থানে একবার করে হানা দিয়েও শুনেছি কোন সুফল হয়নি।’
একটু থেমে আবার বললো, ‘ভাবছি এখন পর্যন্ত তোকে তাঁরা আহবান করছেন না কেন?’
সজীব মৃদু স্বরে বললো, ‘ভুলে যাচ্ছিস কেন যে, ওরা পুলিশ। ওরা সহজে তৃতীয় ব্যক্তিকে আহবান করতে চায়না। তাতে পুলিশের সুনাম ক্ষুন্ন হয়। ইনচার্জ অফিসার যখন হাল ছেড়ে বসবার যোগার করেন, কেবল তখনই ওপর ওয়ালাদের আদেশে আমাদের মতো বেসরকারি গোয়েন্দাদের হাতে কেস তুলে দিতে বাধ্য হোন।’
  সহসা টেলিফোনটা বেজে ওঠলো। সজীব রিসিভার তুলে কৌতুহলী কণ্ঠে বললো, ‘হ্যালো, সজীব বলছি।…. আমাকে প্রয়োজন?…. আচ্ছা, আচ্ছা আমি আসছি। আচ্ছা এক্ষুনি…..  অনুগ্রহ করে দশ মিনিট অপেক্ষা করুন।
অমর প্রশ্ন করলো, ‘কে ফোন দিয়েছিলেন?’
‘তুলি।’
‘ডি.সি সাহেবের মেয়ে তুলি? এ যে দেখছি মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির  উদয়!’
‘হ্যাঁ, চল জলদি।’
‘চল।’
গাড়ি নিয়ে ওরা বেরিয়ে পড়লো ডিসি সাহেবের বাসভবনের উদ্দেশ্যে।
এক সময় গাড়ি ডিসি সাহেবের বাঙলোর সামনে এসে থামলে একজন দারোয়ান ছুটে এলো। সজীব পরিচয় দিয়ে পকেট থেকে ভিজিটিং কার্ড বের করে দারোয়ানের হাতে দিয়ে বললো, আমাদের ডিসি সাহেবের মেয়ে তলব করেছেন। আমাদের তার কাছে নিয়ে চলুন।’
‘একটু অপেক্ষা করুন।’ বলে দারোয়ান ভেতরে প্রস্থান করলো। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললো, ‘আপনারা ভেতরে আসুন, দিদি মনি ডাকছেন।’
অন্দরমহলে প্রবেশ করতেই ওদের স্বাগত জানায় তুলি। বসতে বলে তাদের। সজীব ও অমর সোফায় হেলান দিয়ে বসে।
সজীব লক্ষ্য করে তুলিকে। বয়সে প্রায় সমবয়সী বলা যায়। চেহারা বেশ মাধুর্যপূর্ণ। দেখেই অনুমান করা যায় বেশ বুদ্ধিমতী।
 সজীব বললো, ‘এবার বলুন, ডেকেছেন কেন?’ এমন সময় বাসার কাজের লোক নানান রকম মিষ্টি ও ফল নাস্তা নিয়ে এলো।
তুলি বললো, ‘আগে এগুলো খেয়ে নিন। তারপর বলা যাবে।’
সজীব ও অমর নির্দ্বিধায় খেতে শুরু করলো। খাওয়া শেষ হলে তুলি মৃদু কণ্ঠে বললো, ‘আপনি হয়তো অবগত আছেন, অনুপম জুয়েলার্স থেকে আমার স্বর্ণে চুনী পাথর বসানো মূল্যবান হারটা অপহৃত হয়েছে।’
‘হ্যাঁ, পত্রিকায় দেখেছি নিউজটা।’
‘কেন জানিনে, আমার মন বলছে আপনিই আমার হারটা উদ্ধার করতে পারেন। পূর্বে কত জটিল কেসে আপনি তদন্ত চালিয়ে সফল হয়েছেন। অনেক পত্র পত্রিকায় পড়েছি আপনার সম্বন্ধে। আমার একান্ত ইচ্ছে এই কেসটা আপনি হাতে নিন।’
‘আপনি অনুরোধ না করলেও কেসটা হাতে নিতাম। কারণ, ইচ্ছে করেই হোক বা অনিচ্ছায় হোক কেসটার সাথে জড়িয়ে গেছি।’
স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে তুলি বললো, ‘ধন্যবাদ আপনাকে।’
সজীব বললো, ‘অনুগ্রহ করে কিছু তথ্য দিয়ে আমায় সহযোগিতা করবেন।’
‘বেশতো আপনার যা জানার আছে জেনে নিন।’
‘স্বর্ণ ও মূল্যবান চুনী পাথর কতদিন আগে, কোথা থেকে আমদানি করা হয়েছিলো?’
‘ডাকাতি হওয়ার দিন দশের আগে সৌদি থেকে আমার এক আঙ্কেল পাঠিয়েছিলেন। উনি সৌদিতেই বসবাস করেন।’
‘যেদিন হারটা চুরি হয়, সেদিন অনুপম জুয়েলার্সে কেন গিয়েছিলেন?’
‘আমি? কই! আমিতো অনুপম জুয়েলার্সে যাইনি!’
‘অনুপম জুয়েলার্সের মালিক জিম রহমান যে বললেন, আপনি গিয়ে নতুন ডিজাইন দিয়ে এসেছিলেন। আগের ডিজাইন নাকি আপনার পছন্দ হয়নি?’
‘উনি ভুল করছেন। কোনদিনই আমি অনুপম জুয়েলার্সে যাইনি। প্রয়োজনে বাবা যান।’
‘আপনার সাথে জিম রহমানের কখনও আলাপ হয়নি?’
‘তাঁকে তো কোনওদিন দেখিইনি। আলাপ হবে কখন!’
সজীবের বুঝে গেলো যে, জিম রহমান প্রতারিত হয়েছেন হয়তো। তুলির ছদ্মবেশে হয়তো অন্য কেউ এসেছিলো জিম রহমানের দোকানে।
 সজীব ওঠে দাঁড়িয়ে বললো, ‘আচ্ছা, আজ আমরা আসি। প্রয়োজনবোধে খবর পাঠাবেন।’ (চলমান…)

(তদন্ত (পর্ব-০১) পড়তে এখানে ক্লিক করুন)

Check Also

তদন্ত (পর্ব-০৫)

তদন্ত লেখক: রুদ্র অয়ন সহসা টেলিফোনে বেজে ওঠে। সজীব রিসিভার তুলে কথা বলে সজীব। ফোন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *