Saturday , October 31 2020

তদন্ত (পর্ব-০৫)

তদন্ত

লেখক: রুদ্র অয়ন


সহসা টেলিফোনে বেজে ওঠে। সজীব রিসিভার তুলে কথা বলে সজীব। ফোন করেছেন কমিশনার কে.এম.খান, পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সজীব পুলিশ  হেড কোয়ার্টারে উপস্থিত হয়। সাথে অমর। 

 
পুলিশ কমিশনার তাদের অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, ‘ধন্যবাদ, এসো।’
 
পুলিশ হেড কোয়ার্টারে জরুরি গোপন সভা বসেছিলো। 
গম্ভীর কণ্ঠে কমিশনার বললেন, ‘বড় সমস্যায় পড়ে তোমাকে ডেকেছি।’
 
‘বলুন স্যার, কিভাবে সাহায্য করতে পারি।’
 
‘বসো বলছি।’
 
সজীব ও অমর আসন গ্রহণ করে বসলো। পুলিশ অফিসার অজয় শেখকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে সজীব জিজ্ঞেস করলো, ‘কি ব্যাপার স্যার, এমনভাবে চুপচাপ বসে আছেন? বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে আপনাকে!’
 
পুলিশ অফিসার গম্ভীরস্বরে বললেন, ‘দেখছোনা ভাই, শহরের আসামিরা আমাদের এতোটুকুও শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেনা। আজ এখানে ডাকাতি, কাল ওখানে খুন এসব লেগেই আছে!’
 
কমিশনার বললেন, ‘শোনো সজীব, আমাদের অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমরা তোমার কাছে ঋণী। আজ আমার একটি অনুরোধ, আমাদের সম্মান রক্ষা করো। তুমি হয়তো জেনেছো, সলিল মিয়া কোন অজ্ঞাত হত্যাকারীর হাতে খুন হয়েছেন। পুলিশ অফিসার অজয় শেখ চুরি যাওয়া হারটা উদ্ধারে ব্যস্ত আছেন। তাই তোমার প্রতি আমার অনুরোধ, তদন্ত করে সলিল মিয়ার হত্যাকারীকে এ্যারেষ্ট করে দাও।
 
সজীব বললো, ‘এই কেসটা আমি হাতে নিয়েছি। সলিল সাহেবের মেয়ে আমায় ডেকে কেসটা আমাকে দিয়েছেন।’
 
কমিশনার কে.এম.খান স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘যাক, অনেকটা হালকা আর চিন্তা মুক্ত  হলাম। তোমার যখন যা দরকার বলবে, অজয় শেখ তোমাকে সব ধরনের সাহায্য করবেন।’
 
সজীব পুলিশ অফিসার অজয় শেখকে বললো, ‘সলিল মিয়ার ময়না তদন্তের রিপোর্টটা জানতে  চাই।’
 
অজয় শেখ একটি ফাইল এনে সজীবের হাতে দিলেন। সজীব ভালোভাবে ফাইলটাতে চোখ বুলাতে লাগলো এবং প্রয়োজনীয় অংশ নোটবুকে টুকে নিয়ে ফাইলটি ফেরত দিলো। এবার বিদায় নেয়ার জন্যে ওঠে দাঁড়ালো সজীব। বললো, ‘আমরা এখন আসি। আশা করি এই কেসটাতেও আমি সফল হবো।’
 
কমিশনার কে.এম.খান বললেন,  ‘তোমার কৃতকার্যতা একান্তভাবে কামনা করি।’
 
পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে বেরিয়ে গাড়িতে এসে ওঠলো সজীব ও অমর। হঠাৎ করে একটা চিঠি গাড়ির খোলা জানালা দিয়ে গাড়ির ভেতরে এসে পড়লো। অমর গাড়ি থেকে নেমে এদিক ওদিক দেখলো। কোথাও কেউ নজরে পড়লোনা। গাড়িতে ওঠে আসে অমর। সজীব চিঠির ভাঁজ খুলে পড়তে লাগলো। চিঠিতে লেখা রয়েছে –
সজীব, 
সজীব মিয়া হত্যার ব্যাপারে তুমি বাড়াবাড়ি করোনা। একদম না। ও কাজে তোমার মৃত্যুই ডেকে আনবে। আমি তোমার শুভাকাঙ্খী। আমি চাইনে, এই কেসটা হাতে নিয়ে তুমি অকালে প্রাণটা হারাও। সাবধান। 
ইতি – তোমার শুভাকাঙ্খী। 
 
সজীব চিঠিটা পড়ে অমরের হাতে দিলো। অমর সেটি পড়ে বিস্মিত হলো। গম্ভীর কণ্ঠে বললো, তা হলে দেখছি কোনো ব্যাটা আমাদের অনুসরণ করছে!’
 
সজীব বললো, হুম। কেউ আমাদের ওপর সব সময় নজর রাখছে মনে হচ্ছে!’
 
সজীব গাড়িতে ষ্ট্যাট দেয়, গাড়ি চলতে থাকে। মৃদু কণ্ঠে সজীব বললো, ‘অপরাধী ভেবেছে ওদের হুমকিতে এ কেসটা ছেড়ে দেবো! না, কিছুতেই না। এখন থেকে আমাদের সতর্ক হয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’
 
অমর বললো, ‘চল আমরা একটু প্রত্যাশা ষ্টোর্স থেকে ঘুরে আসি।’
 
‘হুম, চল।’ সম্মতি জানালো সজীব। 
 
এক সময় ওরা প্রত্যাশা ষ্টোর্স এসে পৌঁছে। শহরের খ্যাতনামা দোকানগুলোর একটি হচ্ছে প্রত্যাশা ষ্টোর্স। মানুষের দৈনন্দিন  জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র প্রায় সবই পাওয়া যায় এখানে। প্রত্যাশা ষ্টোর্স হচ্ছে  একটি মেগা শপিং মল। দোকানের মালিক সলিল মিয়ার মিয়ার মৃত্যুতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। দোকানের কর্মচারীরা একটা অজানা ভয়ে ভীত থাকে। দোকান থেকে পালাতে পারলেই যেনো বেঁচে যায়। কিন্তু পুলিশ হুকুম জারি করে রেখেছে, সলিল মিয়ার হত্যাকারী এ্যারেষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কেউ কোথাও যেতে পারবেনা। এদিকে সলিল মিয়া খুন হওয়ার পর থেকে তাঁর মেগা শপিং মলে আর কেনা বেচাও হয়না। 
 প্রতিষ্ঠানের একজন অর্ধ বয়ষ্ক কর্মচারীকে সজীব বললো, ‘একটু বিশেষ দরকারে আমরা এখানে এসেছি। সলিল সাহেব হত্যার কেসটা আমি হাতে নিয়েছি।’
 
‘ও আচ্ছা। আপনিই সজীব?’
 
‘জ্বি হ্যা।’
 
‘ভালো লাগলো আপনার সাথে পরিচয় হয়ে। আমার নাম আব্বাস।’
 
‘ধন্যবাদ। আমার কয়েকটি কথা জানার আছে। আশা করছি যথাসাধ্য জানাবেন।’
 
‘বেশ, বলুন?’
 
‘এই প্রতিষ্ঠানে আপনি কতদিন ধরে কাজ করছেন?’
 
‘প্রায় সাত বছর।’
 
‘আচ্ছা, সলিল সাহেবকে আপনার কেমন মানুষ বলে মনে হতো বলবেন কি প্লিজ?’
 
‘মানুষটা মন্দ ছিলেন না। তবে একটু রগচটা ছিলেন। অবশ্য বয়স হলে মানুষ একটু রগচটা হয়ে যান সাধারণত।’
 
‘তা ঠিক, সলিল সাহেবেরও বেশ বয়স হয়েছিলো। যাকগে। আচ্ছা, বলতে পারেন কি – সলিল সাহেব যে মার্বেল পাথরের চকচকে একটি মূর্তি বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই মূর্তিটি কোথা থেকে নিয়ে আসা হয়েছিলো?’
 
‘তবে শুনুন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শরীফ রহমানের সাথে আমাদের  বাবু সলিল মিয়ার বেশ ভালো সম্পর্ক ছিলো। একদিন শরীফ সাহেব এবং সলিল সাহেব গিফট কর্ণার থেকে ঘর সাজানোর জন্যে দু’জনে দু’টো মার্বেল পাথরের চকচকে সুন্দর মূর্তি কিনে শরীফ সাহেবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে দু’জনে গল্প গুজব করতে থাকেন। তারপর এক সময় সলিল সাহেব  শরীফ সাহেবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তাঁর মূর্তিটি ভুলে রেখে চলে আসেন। মূর্তিটি কিছুদিন শরীফ সাহেবের কাছে থাকারপর গত পরশু দিন সলিল সাহেব শরীফ সাহেবের বাসা থেকে বাসার জনৈক কাজের লোকের কাছ থেকে নিয়ে আসেন।’
 
‘বাসা থেকে মূর্তিটা নিয়ে আসার অনুমতি কি শরীফ সাহেব দিয়েছিলেন?’
 
‘শুনেছি, শরীফ সাহেব সে সময় ছিলেন না, ব্যবসার কাজে বাইরে কোথাও গিয়েছিলেন। আর মূর্তি তো সলিল সাহেবের। তাছাড়া দু’জনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এখানে অনুমতির ব্যাপারটা মূখ্য নয়।’
 
সজীব বললো, ‘ধন্যবাদ। এবার আমরা আসি। প্রয়োজন মনে করলে আবারও আসতে পারি।’
 
বিদায় নিয়ে গাড়িতে ওঠে বসলো ওরা। সজীব গাড়ি ড্রাইভ  করছে। পথ চলতে চলতে সজীব বললো, ‘আমার মনে হয় সেই মূর্তিটির মধ্যেই কোনও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে।’
 
অমর শান্ত স্বরে বললো, ‘আমারও তাই মনে হচ্ছে।’
 
এক সময় গাড়ি সজীবের বাস ভবনের সামনে এসে থামলো।

Check Also

তদন্ত (পর্ব-০৪)

তদন্ত লেখক: রুদ্র অয়ন টেলিফোন কলের একটানা শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো সজীবের। বিরক্তবোধ করে সজীব। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *