Saturday , October 31 2020

তদন্ত (পর্ব-০৬)

তদন্ত

লেখক: রুদ্র অয়ন


সজীব তার ড্রইং রুমে বসে রয়েছে। নানা রকম চিন্তা ভাবনা এসে, ওর মাথায় জট পাকাচ্ছে। এমন সময় অমর এসে বললো, ‘তুলি খবর পাঠিয়েছে। তোকে যেতে হবে ; চল।’

  সজীব তৈরি হয়ে নেয়। গারেজ ঘর থেকে গাড়ি বের করে রওয়ানা দেয় দু’জনে। কিছুক্ষণ পর ওরা ডি.সি সাহেবের বাঙলোর সামনে এসে পৌঁছে। গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে যায় সজীব ও অমর। গাড়ির শব্দ পেয়ে তুলি সদর দরজার কাছে এসে বললো, ‘আসুন।’
তুলি ওদের ভেতরে নিয়ে যায়। গেস্ট রুমে এসে বসলো তিন জনে।
সজীব বলে, ‘এবার বলুন, হঠাৎ তলব করার কারণ?’
‘হারটা উদ্ধারের কাজ কতদূর এগিয়েছে?’
‘তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, আপনার জন্মদিনের আগেই আপনার হারটা উদ্ধার করে দিতে পারবো।’
‘কেসটা আপনার হাতেই দিয়েছি। আমার বিশ্বাস আপনি সফল হবেন।’
এমন সময় কাজের লোক চা নাস্তা দিয়ে গেলো।
তুলি বললো, ‘নিন, শুরু করুন।’
দু’জনকে দু’টো প্লেট এগিয়ে দিয়ে নিজেও একটা প্লেট নিলো তুলি।
খাওয়া শেষ হলে সজীব জিজ্ঞেস করলো, ‘আপনার জন্মদিন আর কয়দিন বাকী?’
‘আর মাত্র তিন দিন।’
‘ঠিক আছে। চেষ্টা করে যাচ্ছি। নিরাশ হওয়ার কিছু নেই।’
সজীব যাওয়ার জন্যে ওঠে দাঁড়িয়ে বললো, ‘যদি কিছু মনে না করেন তবে এখন আমরা বিদায় নিই?’
তুলি হাসি মুখে বললো, ‘আপনাদের মতো স্বনামধন্য গোয়েন্দাদের কি আমি বেশিক্ষণ  আটকিয়ে রাখতে পারবো? তবে মাঝে মধ্যে বোন মনে করে হোক বা বন্ধু হোক মনে করেই হোক আসবেন কিন্তু।’
সজীব আনন্দিত হয়ে বললো, ‘বোন বা বন্ধুই যখন হলেন তখন “আপনি” করে বলার কি দরকার । বোন বা বন্ধু কি কখনও আপনি করে বলে?’
তুলি বললো, ‘যাক ভাই, আমি খুশি হলাম। ভাই বা বন্ধু হিসেবে পেয়ে আমি গর্বিতও বটে।’
অমর বললো, ‘দেখ বন্ধু, বোন বন্ধু পেয়ে আমাকে আবার ভুলে যাসনা যেনো!’
ওর কথা শুনে হেসে ওঠলো সবাই।
 সজীব ও অমর তুলির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাবার কিছুক্ষণ পর ডি.সি সাহেব এলেন। সাথে পুলিশ অফিসার অজয় শেখ।
দু’জনে গেস্ট রুমে গিয়ে বসলেন।
ডি.সি সাহেব অজয় শেখকে বললেন, ‘আমার মেয়ের জন্মদিনের আর মাত্র তিন দিন বাকি আছে। তার আগে যদি হারটা উপহার না দিতে পারি আর জন্মদিনের পরে যদিও উদ্ধার করে দেন তবে আর কি হবে! আসল আনন্দটাই তো আর থাকবেনা।’
‘আশা করি জন্মদিনের আগেই হারটি উদ্ধার করতে সক্ষম হবো স্যার।’
‘তা যায় বলুন না কেন, আপনাদের ওপর আমার মেয়ে তুলি’র ভরসা বা বিশ্বাস নেই। সেই জন্যে তুলি নিজ থেকেই প্রাইভেট ডিটেকটিভ সজীবকে ডেকে কেসটা তার হাতে দিয়েছে।’
অজয় শেখ কিছুটা অবাক হয়ে বললেন, ‘সজীবের হাতে! কই এ কথাতো সজীবের কাছ থেকে শুনিনি!’
ডি.সি সাহেব কিছুটা বিরক্তির স্বরে বললেন, ‘সেই তরুণ গোয়েন্দা আপনাদের মতো তো আর ঢোল পিটিয়ে বেড়ায় না।’
অজয় অবশ্য একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘প্রাইভেট ডিটেকটিভ সজীব যখন কেসটা হাতে নিয়েছে তখন কিছুটা চিন্তামুক্ত হলাম স্যার।’
ডি.সি সাহেব বললেন, ‘সজীবের ওপর দেখছি আপনারও বিশ্বাস রয়েছে।’
অজয় শেখ বললেন, ‘আগে বহুবার আমাদের সাহায্য করেছে সে।’
অজয় শেখ যাওয়ার জন্যে ওঠে দাঁড়ালেন।
মৃদু কণ্ঠে বললেন, ‘এবার আমি আসি, স্যার।’
ডি.সি সাহেব বললেন, ‘ঠিক আছে, আসুন তা হলে।’
 পুলিশ অফিসার অজয় শেখ বিদায় নিয়ে চলে যেতেই তুলি গেস্ট রুমে প্রবেশ করে ডি.সি সাহেব কে বললো, ‘পুলিশ অফিসার  অজয় আংকেল কি বললেন বাবা?’
‘বললেন, যথাসাধ্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।’
‘তা যায়ই বলোনা কেন বাবা, পুলিশ আংকেল যে সফল হবেন এই আশা অত্যান্ত ক্ষীণ। এই দেশের পুলিশ কাজেরই না। অবশ্য দু’একজন যে ব্যতিক্রম নয় তা নয়। কিন্তু অধিকাংশই নিজেরাই দুর্নীতিগ্রস্থ, অনৈতিক কাজে জড়িত। এরা শুধুই সরকারের অন্য ধ্বংস করে। আর ঘুষ খেতে পটু। পুলিশ জনতার জান মালের নিরাপত্তা সেবার জন্যেই রয়েছে। কিন্তু কয়জন পুলিশ সাধারণ মানুষের বন্ধু হয়ে ওঠতে পেরেছে! আজকালতো হীন স্বার্থে নিরপরাধ মানুষকেও ইয়াবা বা মাদব দিয়ে ফাঁসিয়েছে ওরা! পত্র পত্রিকায় তাদের কত যে অপরাধের দলিল রয়েছে তার হিসেব নেই! কয়টার সুরাহা হয়েছে? সম্প্রতি সিনহা হত্যার পেছনেও পুলিশের  হাত রয়েছে এটা সবাই বুঝে গেছে। সাগর – রুনি হত্যার কোনও সুরাহা হলোনা! তনু, নুসরত, রিফাত, বিশ্বজিত,
তানিয়া,রিয়াদ,খাদিজা এছাড়াও  আরও কত শত কেসের নেপথ্য কাহিনি, ন্যায় বিচার আজও হলোনা!’
‘তারপরও ভালো কিছু লোক পুলিশ, প্রশাসনে রয়েছে এটা কি তুমি অস্বীকার করো মা?’
‘না অস্বীকার করিনা। কিন্তু সংখ্যায় অত্যান্ত নগন্য। আর শত সহস্র দুর্নীতিগ্রস্থ, ঘুষখোর, ধান্দাবাজদের ভীড়ে ভালো, সৎদের সংখ্যা এতোই নগণ্য যে সাধারণত মানুষ পুলিশের কাছে সহজে যেতে চায়না! তাদের বন্ধু মানতে চায়না।’
ডি.সি সাহেব কিছু একটা বলতে গিয়েও আর বললেননা।
তুলি আবারও বলতে লাগলো, ‘আমি পুলিশের চেয়ে সজীবকেই বেশি বিশ্বাস করি বাবা। আমার বিশ্বাস সজীব সফল হবে। তুমি আসার কিছুক্ষণ আগে সজীবকে ডেকেছিলাম। জিজ্ঞেস করলাম, কাজের কতদূর? উত্তরে বললো, এগিয়ে যাচ্ছি, হতাশার কিছু নেই। আমার বিশ্বাস সে সফল হবে।’
‘তা হলে আমি খুব আনন্দিত হবো।’
ডি.সি সাহেব গেস্ট রুমে থেকে বেরিয়ে তাঁর নিজস্ব রুমের দিকে গেলেন।

Check Also

তদন্ত (পর্ব-০৪)

তদন্ত লেখক: রুদ্র অয়ন টেলিফোন কলের একটানা শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো সজীবের। বিরক্তবোধ করে সজীব। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *