শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন

নির্যাতনের শিকার মমিনুল ও তার মাকে দেখতে গিয়ে যা বললেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার

ধরলা টাইমস
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০
  • ২০ বার দেখা হয়েছে

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ: লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার চাঁদনীবাজার এলাকার সরকারি আবাসনে নির্মম নির্যাতনের শিকার কিশোর মমিনুল ইসলাম ও তার মা গোলাপী বেগমকে দেখতে যান। পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মমিনুল ইসলাম। এ সময় পুলিশ সুপার আবিদা মমিনুলের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং শরীরে নির্যাতনের চিহ্নগুলো দেখেন।

পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা মমিনুল ইসলামকে বলেন, তুমি যাতে ন্যায় বিচার পাও। আমরা সেই কাজটা করছি।ওসি সাহেব আছে। তোমার জন্য যতটুকু পারি আমরা সহযোগিতা করবো। এসব আজেবাজে কাজ করা যাবে না। তোমার বয়স কম, ছোট মানুষ। আর কখনোই এ জাতীয় কাজ করবে না। তুমি কাজ করে খাবে। দুনিয়াতে যার হাত আছে তো সব আছে। হাত নেই তো কিছু নেই। তোমার হাত-পা আছে। তুমি তো সুস্থ্য মানুষ। আর উল্টাপাল্টা কাজের সাথে জড়িত হবে না। আমরা কিন্তু সব সময় তোমার দিকে নজর রাখব। উল্টাপাল্টা কাজ করলে কিন্তু শেষ একদম, ঠিক আছে। আজেবাজে যা যা স্বভাব ছিল, আজ থেকে সেগুলো সব বাদ। আমি তোমাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেবো, লেখাপড়ারও সুযোগ করে দেবো।

এছাড়াও পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা মমিনুল ইসলামের পালিত মা গোলাপী বেগমের নিকট বিস্তারিত জানতে চান। অসুস্থ্য বৃদ্ধা গোলাপী বেগম ছেলের নির্যাতনের কথা জেনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুলিশ সুপার শান্তনা দিয়ে গোলাপী বেগমকে বলেন, আপনি এমন একজন মা, সত্যিই সৌভাগ্যবান। আপনি জন্ম না দিয়েও যে মমিনুল ইসলামকে লালন-পালন করেছেন। এমন কাজ কয়জন করে? আপনার আর কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা সাধ্য মতো আপনার চিকিৎসা দেবো, ঔষধ দেবো। আপনি সুস্থ্য হয়ে যাবেন। ছেলেকে দেখে রাখবেন। আমরা আপনাদের সাথে আছি।

জানতে চাইলে পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, কিন্তু অপরাধ কেন করলো সে? অপরাধের জায়গায় সে যাতে না যায়। তাকে যাতে মানবিকভাবে আমরা দেখতে পারি, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য। তারপরও সে যদি অন্যায় করেও ফেলে। সেক্ষেত্রে দেশে আইন আছে। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। কিন্তু কেউ নিজের হাতে আইন তুলে এভাবে নির্মমভাবে নির্যাতন করবে? সভ্য সমাজে এটা হতে পারে না। সে কারণেই আমাদের পক্ষে যতখানি করণীয় সেটাই আমরা করছি এবং বাচ্চাটি যাতে সুস্থ্য পথে স্বাভাবিক জীবনে থাকতে পারে। পিতা-মাতা নেই। এতিম একটা ছেলে। গোলাপী বেগম একজন ভদ্র মহিলা। তিনি কষ্ট করে মমিনুলকে বড় করেছে। লালন-পালন করেছে। এর চেয়ে সুন্দর জিনিস তো হতে পারে না। সে কারণেই আমরা চাচ্ছি যে, দেশের অন্য দশজনের মতো মমিনুল ইসলামও সুন্দর স্বাভাবিক জীবনযাপন করুক। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, সীমিত সামর্থ নিয়ে সেটাই আমরা করতে চেয়েছি। আজকে আমার আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে- তার মাকে মানসিকভাবে শক্তি দেওয়া এবং অন্যরা যাতে তাদেরকে টিজ না করে, মানসিকভাবে পীড়ন না দেয়। এই মেসেজটি দেওয়া। সে ছোট বাচ্চা। সে একটা ভুল করেছে। যেন সে সুন্দর স্বাভাবিক জীবনে আসতে পারে, এজন্য আমার এখানে আসা।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) এস এম শফিকুল ইসলাম শফিক, লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলমসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা মমিনুল ইসলামের মায়ের হাতে নগদ অর্থ, খাবার ও মৌসুমী ফলমূল তুলে দেন। লালমনিরহাট সরকারি কলেজ থেকেও ওই পরিবারটিকে চাল, ডাল, তেল সহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলা ট্রাক ও ট্যাক লরি মালিক সমিতির সভাপতি ও সীমান্ত শপিং কমপ্লেক্সের মালিক আশরাফ আলী লালসহ অপর তিন আসামী লালমনিরহাট কারাগারে রয়েছে। মামলার এজাহার নামীয় অপর দুই আসামীসহ অজ্ঞাত আসামীদেরও আইনের আনা হবে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১১টায় লালমনিরহাট জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড় চত্বরে লালমনিরহাট সচেতন নাগরিক কমিটিসহ ৬টি সংগঠন নির্মম নির্যাতনের শিকার মমিনুলের মামলার প্রধান আসামী লালের জামিন যেন না হয় সে জন্য মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। সনাক সভাপতি অধ্যক্ষ স্বপ্না জামানের নেতৃত্বে ৬টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে বক্তব্য রাখেন। স্বপ্না জামানের নেতৃত্বে এর মধ্যে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, জেলা যুব ইউনিয়নের আহবায়ক নিরঞ্জন কুমার সিংহ, জেলা ছাত্র ইউনিয়ন সংসদের আহবায়ক তপন কুমার রায়, যুগ্ম আহবায়ক বদিউজ্জামান সোহাগ, টিআইবি লালমনিরহাট ইয়েস গ্রুপের টিম লিডার ইফতেখারুল ইসলাম, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সহসভাপতি ডাঃ আশিক ইকবাল, সদস্য রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন:

এ বিভাগের আরো পোস্ট
© All rights reserved © 2019 Dhorla Time
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102